লম্বা বিরতি কাটিয়ে ফেরা ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার অভ্যস্ততা গড় তুলতে প্রেসিডেন্টস কাপ আয়োজন করেছে বিসিবি। নির্ভার ক্রিকেট খেলে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলার সুযোগ রয়েছে এ টুর্নামেন্টে।
কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগটা নিতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে আজ লো স্কোরিং ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা বেশি স্পষ্ট। তামিম একাদশের ১০৩ রানের জবাবে মাহমুদউল্লাহ একাদশও জয়ের আগে হারিয়েছে ৫ উইকেট।
মাহমুদউল্লাহ প্রথম ম্যাচে ফিফটি করলেও কাল আউট হয়েছেন ১০ রান করে। আগের ম্যাচে মুশফিকুর রহিম এবং কাল তামিম ইকবালও পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কে। নির্বাচক হাবিবুল বাশার অবশ্য অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। আজ সাংবাদিকদের তিনি বললেন, ‘মুশফিকুর রহিম-মাহমুদউল্লাহরা প্রমাণিত খেলোয়াড়। এদের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সময়মতোই ওরা ভালো খেলবে।’
লম্বা বিরতিতে ফিরে ব্যাটসম্যানদের মতো মিরপুরের উইকেটও সম্ভবত জড়তা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটকে বুকে নিয়ে সেটিও যেন আনকোরা উইকেটের মতো আচরণ করছে! ব্যাটসম্যানদের সংগ্রাম করতে দেখেও হাবিবুলের আশা, ‘যত ম্যাচ হতে থাকবে, ব্যাটসম্যানরা তত ছন্দে ফিরবে।’ পুরো ছন্দে ফিরতে চার-পাঁচ ম্যাচও লেগে যেতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

সেটিই যদি হয়, প্রেসিডেন্টস কাপের অর্ধেকটাই হয়ে যাবে ম্যাড়মেড়ে। আজকের ম্যাচটা যেমন শুরুতেই একপেশে করে দিলেন তামিম একাদশের ব্যাটসম্যানরা। ৪ রানে ভেঙেছে ওপেনিং জুটি। অধিনায়ক তামিম ২ রানে আউট।
এনামুল হক আর তানজিদ হোসেনের দ্বিতীয় উইকেট জুটি পথ দেখাচ্ছিল দলকে। কিন্তু এরপর আবারও বিপর্যয়। ১ উইকেটে ৪২ রান থেকে তামিম একাদশ অলআউট ১০৩ রানে। ৬১ রানে পড়েছে শেষ ৯ উইকেট! দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেছেন তানজিদ। তামিম একাদশের ব্যাটিংয়ের মলিন ছবিটা এই তথ্যে নিশ্চয়ই আরও বেশি স্পষ্ট।
দুর্দান্ত বোলিং করেছেন মাহমুদউল্লাহ একাদশের বোলাররা, বিশেষ করে রুবেল হোসেন। তাঁর সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তামিম একাদশের ব্যাটসম্যানরা। ৩ উইকেট নেন এ পেসার। ১০৪ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাহমুদউল্লাহ একাদশের শুরুটা হয় বাজে। স্কোরবোর্ডে ১ রানও জমা হয়নি, মাহমুদউল্লাহর দল হারিয়ে বসে ৩ উইকেট! লিটন দাস, নাঈম শেখ ও ইমরুল কায়েস ফিরেছেন কোনো রান না করেই। প্রথম ম্যাচের মতো মাহমুদউল্লাহ ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি কাল। তবু ৩৯ রানে ৪ উইকেট হারানো দলটাকে জয়ের প্রান্তে নিয়ে যান নুরুল হাসান (৪১*) আর মুমিনুল হক (৩৯)। ২ উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
সহজ ম্যাচটা কঠিন করে জিতেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তৃপ্ত না হওয়াই স্বাভাবিক। প্রেসিডেন্টস কাপে নির্ভার ক্রিকেট খেলার সুযোগটা যে নিতে পারছেন না!



0 Comments