কিক অফের আগে : তিতের পঞ্চাশতম ম্যাচেও প্রতিপক্ষ সেই পেরু
কবে, কখন
পেরু-ব্রাজিল
বিশ্বকাপ বাছাই
১৪ অক্টোবর, সকাল ৬.০০
এস্তাদিও নাসিওনার দে লিমা
পেরুর সঙ্গে ব্রাজিল কোচ তিতের সম্পর্কটা একটু অন্যরকম। ২০১৬ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল পেরুর কাছে হারার পরই দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিতে। তিন বছরের মাথায় কোপা আমেরিকার ফাইনালে সেই পেরুকে হারিয়েই নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা পুরস্কারটা জিতেছিলেন ৫৯ বছর বয়সী। এবার সেই পেরুর বিপক্ষে ব্রাজিলের কোচ হিসেবে পঞ্চাশতম ম্যাচে ডাগ আউটে থাকবেন তিনি।
আগের ৪৯ ম্যাচে তিতের রেকর্ড দুর্দান্ত। ব্রাজিল তার সময়ে হেরেছে মাত্র ৪ ম্যাচ। প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের একমাত্র হারটি ২০১৮ বিশ্বকাপে, কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। বাকি তিনটি হারই প্রীতি ম্যাচে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এখনও তিতের ব্রাজিলকে হারাতে পারেনি কোনো দল। পেরুর জন্য ম্যাচটা হয়ত প্রতিশোধের, কিন্তু কাজটা তাই বহুগুণে কঠিন।
বলিভিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপ বাছাই শুরু করেছে ব্রাজিলিয়ান ছন্দে। নেইমার, ফিলিপ কৌতিনহো, রবার্তো ফিরমিনোর আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত। মিডফিল্ডেও ছিল যথেষ্ট সমন্বয়। প্রায় এক বছর পর আন্তজার্তিক ফুটবলে ফিরলেও তিতের দলের খেলায় মরচে পড়েনি এতোটুকুও। বলিভিয়া ম্যাচে নেইমারকে নিয়ে শঙ্কা ছিল, শঙ্কা কাটিয়ে নেইমার শেষ পর্যন্ত খেলেছিলেন। ব্রাজিলের প্রায় সব গোলেও অবদান ছিল তার। এবার পেরুর বিপক্ষে তিতের সেরকম কোনো দুশ্চিন্তাও নেই। পুরোপুরি মাঠের খেলাতেই মনোযোগ রাখার সুযোগ পাচ্ছেন তিতে।
বাছাইপর্বের শুরুটা পেরুর জন্যও মন্দ হয়নি। প্যারাগুয়ের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে ফিরেছে তারা। পেরুর কোচের পদে এখনও আছেন সেই রিকার্ডো গারেচাই। আর্জেন্টাইন কোচের হাত ধরে ২০১৮ বিশ্বকাপে বাছাই করার পর পেরু উঠেছিল কোপার ফাইনালেও। স্বাগতিকদের কাছে ফাইনাল হারলেও মাস দুয়েক পর আরেক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়েও দিয়েছিল পেরু। তিতের ব্রাজিলকে যে গুটি কয়েক কোচ হারাতে পেরেছেন তাদের ভেতর তাই আছেন গারেচাও।
লিমায় অবশ্য ম্যাচটা কেমন হতে যাচ্ছে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। ব্রাজিলের আক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়বে পেরুর রক্ষণে। সামাল দিতে পেরু ডিফেন্ডারদের খেলতে হবে নিখুঁত ম্যাচ। পেরুর রক্ষণের মূল স্তম্ভ বোকা জুনিয়র্স ডিফেন্ডার কার্লোস জামব্রানো। ব্রাজিলের বিপক্ষে দলের বাকি ডিফেন্ডারদের তিনি কতোখানি অনুপ্রাণিত করতে পারেন সেটাই হয়ত ভাগ্য গড়ে দেবে ম্যাচে।
তবে নেইমারদের কাজটা খুব একটা সহজ হওয়ার কথা নয়। পেরু শরীরনির্ভর ফুটবলে অভ্যস্ত। দক্ষিণ আমেরিকায় সম্ভবত পেরুর মতো আর কোনো দল এতোখানি শরীরনির্ভর ফুটবল খেলে না। সেক্ষেত্রে কাসেমিরোদের মিডফিল্ডকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ফাবিনহো এই ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। যদিও বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠেই নামা হয়নি লিভারপুল মিডফিল্ডারের।
দলের খবর
বলিভিয়ার পর পেরুর ম্যাচে এডারসনকে গোলবারের নিচে দেখার সম্ভাবনা নেই। লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসনের চোটের পর দলে ডাক পেয়েছেন। অ্যালিসনের অনুপস্থিতিতে তিতের প্রথম পছন্দ পালমেইরাস গোলরক্ষক ওয়েভারটন। পেরুর বিপক্ষে তিতের একাদশে বড়সড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও নেই।
সম্ভাব্য একাদশ
পেরু
গালেসে, আদভিনকুলা, জামব্রানো, আবরাম, ট্রাউকো, তাপিয়া, কারিহো, আকুইনো, ইয়োতুন, কিউয়েভা, রুইডিয়াজ
ব্রাজিল
ওয়েভারটন, দানিলো, থিয়াগো সিলভা, মার্কিনিয়োস, রেনান লোদি, ডগলাস লুইজ, কাসেমিরো, কুতিনহো, এভারটন, ফিরমিনো, নেইমার
হেড টু হেড
সবমিলিয়ে ৪৭ দেখায় ব্রাজিল জিতেছে ৩৩ বার। পেরু ব্রাজিলকে হারাতে পেরেছে মাত্র ৫ বার। গত বছর সেপ্টেম্বরে শেষ দেখায় ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল পেরু। লিমায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুই দলের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছিল ২-০ তে।
প্রেডিকশন
পেরু ০- ৩ ব্রাজিল
ফুলটাইম
বলিভিয়া ১-২ আর্জেন্টিনা
অবশেষে বৈরি বলিভিয়াকে জয় করলো আর্জেন্টিনা। লা পাজ থেকে লিওনেল স্কালোনির দল জয় নিয়ে ফিরল ১৫ বছর পর! সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে তিন হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার লা পাজে অবশ্য আর্জেন্টিনার শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। এই মাঠের রীতি ধরে রেখে আরও একবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েছিল বলিভিয়া। কিন্তু দুই অর্ধে দুই গোল দিয়ে সেখান থেকে ফিরে এসে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্কালোনির দল।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে মার্সেলো মার্টিনস হেডে গোল করে বলিভিয়াকে এগিয়ে নেন। আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই খেলছিল এলোমেলো। বলিভিয়ার গোল পর্যন্ত পৌঁছাতেও ধুঁকতে হচ্ছিল লিওনেল মেসিদের। বিরতির ঠিক আগে আর্জেন্টিনার কপাল খুলে যায় বলিভিয়ার এক ভুলে, আর লাউতারো মার্টিনেজ পেয়ে যান অদ্ভুত এক গোল। বল নিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন মার্টিনেজ। কিন্তু গোলে শট করতে পারেননি তিনি। বলিভিয়া ডিফেন্ডার হুয়ান কারাস্কো বল ক্লিয়ার করতে শট করেছিলেন, কিন্তু সেটাই মার্টিনেজের গায়ে লেগে ঢুকে যায় বলিভিয়ার জালে।
মার্টিনেজের ওই গোল ছেদ টেনেছে আর্জেন্টিনার অস্বস্তির এক রেকর্ডের। গত চারবছর ধরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে মেসি বাদে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করতে পারেননি কেউ। মার্টিনেজের গোলে দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছে আর্জেন্টিনার।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বলিভিয়াকে আর আক্রমণে তেমন একটা সুযোগ দেয়নি আর্জেন্টিনা। দুই একবার আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করলেও ফাইনাল থার্ডে গিয়ে খেই হারিয়েছে বলিভিয়া। ফ্রাঙ্কো আর্মানির জন্য প্রথমার্ধে কঠিন গেলেও, পরের অর্ধে তিনি ছিলেন স্বস্তিতেই।
বিরতির পর বেশিরভাগ সময়টাতেই বৈরি আবহাওয়ার বিপক্ষে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিল লা আলবিসেলস্তেরা। ৭৫ মিনিটে মেসির পাস থেকে মার্টিনেজ বক্সের ভেতর ঢুকে দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া করেন। তার শট ঠেকিয়ে দেন বলিভিয়া গোলরক্ষক কার্লোস লাম্পে। ৭৯ মিনিটে পরে মেসিই আরেকবার খুঁজে নিয়ে ছিলেন মার্টিনেজকে। এবার ডান প্রান্ত থেকে তিনি থ্রু বল বাড়িয়েছিলেন তার উদ্দেশ্যে। এরপর মার্টিনেজের পাস বক্সের ভেতর বাম প্রান্তে খুঁজে পায় বদলি হোয়াকেন কোরেয়াকে। পছন্দের বাম পায়ে এরপর আড়াআড়ি নিখুঁত শটে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে নেন লাৎসিও ফরোয়ার্ড।
২০০৫ সালে সবশেষ যেবার লা পাজে আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছিল সেবার সেই দলে ছিলেন স্কালোনি। ১৫ বছর পর যখন আর্জেন্টিনার ডাগআউটের দায়িত্বে, তখন তার হাত ধরেই সেই মাঠে বহু প্রতীক্ষিত জয়টা পেল আর্জেন্টিনা। বাছাই পর্বের দুই ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনাও পেল পূর্ণ ৬ পয়েন্ট।
বলিভিয়া
লাম্পে, ভালভার্দে, জেসুস সাগ্রেদো, হোসে সাগ্রেদো, কারাসকো, তোরেস, ওয়ায়ার, কার্দোজো, রাউল কাস্ত্রো, চুমাকেরো, সাউসেদো, মরেনো
আর্জেন্টিনা
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ফ্রাঙ্কো আর্মানি, মন্তিয়েল, লুকাস মার্টিনেজ, ওটামেন্ডি, টালিয়াফিকো, ডি পল, পারেদেস, পালাসিওস, মেসি, লাউতারো, ওকাম্পোস
0 Comments