এডিটার'স মেইলবক্স: ফ্রান্স, ম্যাক্রঁ, কার্টুন নিয়ে বিতর্ক আর ইরফান সেলিম নিয়ে প্রশ্ন
ছবির উৎস,AFP
ছবির ক্যাপশান,
স্যামুয়েল প্যাটি হত্যাকাণ্ডের পর ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ ইসলামের সমালোচনা করেছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে এবং ফ্রান্সে ইসলামের নবীর কার্টুন প্রকাশ করা নিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। সে বিষয় দিয়ে আজকে শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:
''ফ্রান্সে এক শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাল্লেল লাহু আলয়হে ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাঙ্গ কার্টুন চিত্র দেখানোর পর, এক মুসলিম তরুণ তাকে শিরশ্ছেদ করে। তা নিয়ে সারা মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সেই শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নামে নবীর ব্যঙ্গ কার্টুন কীভাবে দেখায়? নিশ্চয় ফরাসি আইনে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর কোন বিচার হয় না, সেই জন্য ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি এব্দো বার বার নবীর কার্টুন অঙ্কন করে । অন্যদিকে ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ নবীর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গোটা ফ্রান্স ও মুসলিমদের উস্কানি দিচ্ছে।''
ফ্রান্সের আইনে জাতিগত এবং ধর্মগত বিদ্বেষের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা আছে মি. ইসলাম। তবে ফ্রান্সের সব চেয়ে বড় মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাক স্বাধীনতা বা মতামত প্রকাশ করার স্বাধীনতা। কার্টুন প্রকাশ করেছে একটি ম্যাগাজিন, যার স্বাধীনতা আইনে নিশ্চিত করা আছে। ফ্রান্সে অনেক মানুষই আছেন যারা এ'ধরণের কার্টুন প্রকাশ করা নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন, কিন্তু তারা এটাও বোঝেন যে, মুক্তচিন্তা রোধ করা ফ্রান্সের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হবে।
ছবির উৎস,AFP
ছবির ক্যাপশান,
স্যামুয়েল প্যাটিকে হত্যার পর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে ফ্রান্সে।
এ'বিষয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ সম্ভবত আগুনে ঘি ঢেলেছেন। বাক স্বাধীনতার নামে মি. ম্যাক্রঁ যা বলেছেন, তা চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ, একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট। প্রকারান্তরে তিনি প্রতিটি মুসলিমের বিশ্বাসে চরমভাবে আঘাত করেছেন। তিনি ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করতে গিয়ে ইসলামকে "আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের উৎস" হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দায়িত্বশীল একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মুখে শোভা পায় না। অথচ ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার পল পগবা বলেছেন, "ইসলামকে প্রত্যেকে যেভাবে দেখে - সন্ত্রাস - ইসলাম সেরকম নয়। এটা খুব সুন্দর একটি ধর্ম।'' আমার প্রশ্ন তাহলে কে সত্য বলেছেন, ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, না পল পগবা। আশা করি বিবিসি বাংলা উত্তর দিবে।''
আমার কোন সন্দেহ নেই মি. রহমান যে, আপনার সেন্টিমেন্টের সাথে অনেকেই একমত হবেন। তবে, মি. ম্যাক্রঁ যেহেতু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, তাই দেশের আইন এবং মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা তার দায়িত্ব। তবে হ্যাঁ, এখানে একটি রাজনৈতিক খেলাও আছে।
নিজ দেশের ভেতরে মি. ম্যাক্রঁর রাজনৈতিক অবস্থান বর্তমানে বেশ নড়বড়ে এবং অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, তিনি নিজের ভাগ্য ঘুরানোর জন্য ইসলামী জঙ্গিবাদকে একটি বড় হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করবেন। এর ফলে যদি ফ্রান্সে মুসলিম-বিদ্বেষের নতুন অধ্যায় শুরু হয়, তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকবেন, ফ্রান্সের ভেতর থেকেই এর তীব্র নিন্দা জানানো হবে।
আর পল পগবা যা বলেছেন, সেটা তিনি তার নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বলেছেন, সেটা নিয়ে আমার মন্তব্য করার কিছু আছে বলে মনে হয় না।
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
মস্কোতে ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮ তে জয়ের পর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর সঙ্গে ফরাসি তারকা পল পগবা।
এ বিষয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''ফ্রান্সে নবীর কার্টুন নিয়ে যে সন্ত্রাসবাদ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট-এর ইসলাম বিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে বেশ হইচই হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে। ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হয়েছে। এই পণ্য বর্জন করে কি আসলেই কোন দেশকে চাপে ফেলা যায়? আগেও দেখেছি ডেনমার্কের পণ্য এবং ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হয়েছিলো। আরো একটি বিষয়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট কি তার অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেন?''
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ এ'মাসের ২ তারিখে দেয়া একটি ভাষণে তাঁর চিন্তা ভাবনা ব্যক্ত করেছেন মি. শামীম উদ্দিন। সেখানে তিনি ফরাসি মুসলিমদের একাংশকে উগ্রবাদী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী বলেছেন, এবং তাদের দমন করার জন্য একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এখান থেকে সরে আসার কোন সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয় না, কারণ এখানে তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব জড়িত আছে। আর ফ্রান্সের পণ্য বর্জন করে আদৌ কিছু হবে বলে আমার মনে হয় না, তবে অনেক মুসলিম দেশে ফ্রান্সের ভাবমূর্তি সাময়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ছবির উৎস,NURPHOTO
ছবির ক্যাপশান,
ঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ফরাসী-বিরোধী বিক্ষোভ
পরের চিঠি লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:
''ধর্ম নিরপেক্ষতা বলতে সাধারণত কোন ধর্মের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশে যেভাবে উস্কানিমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করা হচ্ছে, তাতে ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতিকেই যেন বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মকে আঘাত করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের উস্কানিমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য ফ্রান্সকে যে অনতিবিলম্বে চরম সংকটের মধ্যে ফেলবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।''
এখানে ব্যাপার হচ্ছে মি. চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ মনে করছেন বিশ্বব্যাপী ইসলামই একটি সঙ্কটের মুখে পড়েছে। তবে, তার জন্য তিনি, তার ভাষায় ইসলামী উগ্রবাদকেই দায়ী করছেন। তিনি মনে করেন ফ্রান্সের আত্মপরিচয় এখন হুমকির মুখে, কারণ মুসলিমদের একাংশ দেশের ধর্মনিরপেক্ষ এবং উদারপন্থী নীতি থেকে আলাদা হতে চায়। তবে একথা বলা যায় যে, মুসলিমরা যদি আক্রমণের শিকার হন, তাহলে ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
ছবির উৎস,ERFAN SALIM/FACEBOOK
ছবির ক্যাপশান,
ইরফান সেলিমকে কাউন্সিলরের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। সম্প্রতি ঢাকায় নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধর করার জের ধরে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলের বাসা ঘেরাও এবং তল্লাশি করে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। ইরফান সেলিমের বাসায় বিদেশী মদ আর ওয়াকি টকি পাওয়ার অভিযোগে তার তাৎক্ষণিক বিচার এবং এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
সে বিষয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''একজন আইন-প্রণেতার সন্তানের বাড়িতে এমন বে-আইনি কাজকর্ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। 'সংসদ সদস্য' স্টিকার লাগানো গাড়ির যেরূপ ব্যবহার হয়েছে তা-ও দেশের মানুষকে হতবাক করেছে। ক্ষমতার অপপ্রয়োগের এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে আমাদের দেশে। ক্ষমতা সংশ্লিষ্টরা নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য ভুলে ক্ষমতা প্রদর্শনেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অন্যায়কারী জনপ্রতিনিধি হলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সেটাই দেখতে চাই। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।''
সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার করতে তো বেশ সময় লাগে মি. ইসলাম, কিন্তু এখানে মনে হচ্ছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত, বিচার এবং শাস্তি সবই হয়ে গেল। এখানে অভিযুক্ত আত্মপক্ষ সমর্থন করার কতটুকু সুযোগ পেয়েছিল বা আদৌ পেয়েছিল কি না, তাও পরিষ্কার না। ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ছিল তিনি নৌবাহিনীর এক অফিসারকে মারধর করেছেন। তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা, জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং আদালতে পাঠানো হতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু তার বাড়ি তল্লাশি হল এবং বিদেশী মদ থাকার অভিযোগে তাৎক্ষণিক কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হল। বিষয়টা নিয়ে ভাবার কারণ আছে বলে আমার মনে হয়।
র্যাবের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার, তবে তিনি কিছু প্রশ্নও তুলেছেন:
''সম্প্রতি নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধর এবং কক্সবাজারে অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা রাশেদ হত্যা কাণ্ডের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ত্বরিত গতিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু একই সাথে এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমন দ্রুত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয় না?
''অনেক অভিযোগ তো বছরের পর বছর বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে, সেই সব অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়াটা কি জরুরি নয়? আমার মনে হয়ে, জনগণের এ অধিকার নিশ্চিত করাটাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।''
আমার মনে হয় সবারই সেই প্রত্যাশা আছে মি. সরদার, যে সাধারণ জনগণ অপরাধের শিকার হলে যেন এরকম ত্বরিত এ্যাকশন দেখা যায়। তা না হলে তারা ভাবতে পারেন যে, এখানে সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য ভিকটিম ছিলেন বলেই র্যাব দ্রুত গতিতে অপরাধীকে ধরেছেন এবং ভিন্ন একটি অপরাধে তার কারাদণ্ডও হয়ে গেছে। সরকার নিশ্চয়ই চাইবে না জনগণ সেটা ভাবুক।
ছবির উৎস,D-KEINE
ছবির ক্যাপশান,
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন আর মৃত্যুর শেষ কোথায়? (প্রতিকী ছবি)
বাংলাদেশে যে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে অনেক গুরুতর সমস্যা আছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। পুলিশের হেফাজতে মানুষের মৃত্যু তার মধ্যে একটি। সে বিষয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''আমার রায়হানই যেন পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর শেষ নাম হয়'', কথাটি সাম্প্রতিককালে পুলিশ হেফাজতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া রায়হানের অভাগিনী মায়ের। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, একজন মানুষকে আরেকজন "মানুষ হিসেবে দাবিকারী" কীভাবে এমন পাশবিক নির্যাতনে খুন করতে পারে। হাজার হোক এই খুনিকে তো দিন শেষে কোন পরিবারের কাছেই ফিরে যেতে হয়, যেখানে হয়ত রায়হানের মা'র মত মা, ফুটফুটে বাচ্চা, বউ আরো পরিজন আছেন। রায়হানের মায়ের মত আমিও প্রার্থনা করি, এটাই যেন পুলিশ হেফাজতে এই ধরণের শেষ মৃত্যু হয়।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. সাঈদ, অনেকেই আশা করবেন পুলিশের হেফাজতে যেন আর কোন লোকের মৃত্যু না হয়। পুলিশ যদি আইনের অধীনে কাজ না করে, তাহলে করবে কে? কিছু দিন আগেই এ'ধরণের অপরাধ রোধে প্রণীত একটি আইনের অধীনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাজা দেয়া হল। কিন্তু তারপরও কিছু পুলিশ সদস্য পুরনো অভ্যাস ছাড়তে পারছেন না। সকল পুলিশ সদস্যকে আইন সম্পর্কে সজাগ করা পুলিশ প্রশাসনেরই দায়িত্ব।
ছবির উৎস,NURPHOTO
ছবির ক্যাপশান,
শিশুদের ওপর পরিবারের প্রভাবই মুখ্য
আশে পাশে যা ঘটছে, তা দেখে হতাশা প্রকাশ করে গত সপ্তাহে লিখেছিলেন বাগেরহাটের কচুয়া থেকে শিবাজী মণ্ডল। তিনি আবারো হতাশা প্রকাশ করেই লিখেছেন:
''বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে একটু লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, দিনদিন মানুষের মাঝে সহনশীলতার অভাব বেড়েই যাচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয় - সকল ক্ষেত্রেই মানুষ অসহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে শুরু করছে। একজন মানুষ হিসেবে অপর মানুষের প্রতি সম্মানের ঘাটতি এখন হরহামেশাই নজরে আসে। এই পরিস্থিতির জন্য কাকে দায়ী করা যায়? সামাজিকভাবে নৈতিকতা চর্চার অভাব, পারিবারিক ভাবে সুশিক্ষার অভাব, শিক্ষাঙ্গনে মূল্যবোধ বিষয়ক শিক্ষার ঘাটতি নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রর সঠিক নির্দেশনার অভাবকে?''
দায়ী তো সবাইকেই করা যায় মি. মণ্ডল। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, একজন মানুষ যখন বড় হয়, যখন তার চরিত্র গঠন হয়, তখন তার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে তার পরিবার, শিক্ষাঙ্গন আর পাড়া-প্রতিবেশী। আমার মতে পরিবার, অর্থাৎ বা-মা'র প্রভাবই এখানে মুখ্য।
ছবির উৎস,RICHVINTAGE
ছবির ক্যাপশান,
গোটা বিশ্ব জুড়েই ভুয়া খবর বা ফেক নিউজ এখন বড় চ্যালেঞ্জ
এবারে ভুয়া খবর বা ফেক নিউজ নিয়ে একটি মেইল, পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে শামীম সরকার:
''ভারতে ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর প্রচারে ভারতীয় গণমাধ্যম যেখানে দায়িত্বজ্ঞানহীন, সেখানে সাধারণ নাগরিকের আর কতখানি দায়িত্ব থাকবে? সম্প্রতি ফেক নিউজ প্রচারের জন্য একটি প্রথম সারির সংবাদসংস্থা ইন্ডিয়া টুডে জরিমানাও দিয়েছে। আর এই ফেক নিউজ প্রচারে সরকারের উদাসীনতা ও নীতিগত কারণ দায়ী বলে আমি মনে করি।ফেক নিউজ প্রচারে বিবিসি কতখানি সতর্ক?''
ফেক নিউজ বিবিসির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ মি. সরকার এবং তা মোকাবেলা করাটা আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। ফেক নিউজ কীভাবে মোকাবেলা করা যায় সে লক্ষ্যে গত বছরই বিবিসি লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করে, দিল্লিতেও কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমকে সাথে নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়। 'রিয়ালিটি চেক' নামে বিবিসির নিজস্ব একটি ইউনিট আছে যাদের কাজই হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে অনুসন্ধান চালানো, যাতে ফেক নিউজ চিহ্নিত করা যায়।
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
বুশ বনাম আল গোর: এরকম নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র আর দেখেনি।
আর কয়েক দিন পরেই বিশ্বের সম্ভবত সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে ভোগেন। সেরকম একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে তন্ময় কুমার পাল:
''বিবিসি বাংলায় ইতিহাসের সাক্ষীতে দেখলাম, কীভাবে জর্জ ডাব্লিউ বুশ এক ভোটের ব্যবধানে আল গোরকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে দেখলাম ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভোটিং পদ্ধতি।
''প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই একাধিক ভোটিং পদ্ধতির মধ্যে ২০০০ সালে ফ্লোরিডায় ব্যবহৃত বাটারফ্লাই ব্যালট পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, কারণ এটিতে ভুল হবার সম্ভাবনা বেশি। এত বড় নির্বাচন ব্যবস্থায় একাধিক ভোটিং পদ্ধতি কতটা যুক্তিযুক্ত যেখানে একটি ভোটের গুরুত্ব রয়েছে আমেরিকা সহ সারা বিশ্বের কাছে?''
আমেরিকার গোটা রাজনৈতিক কাঠামোটাই অন্য যে কোন দেশ থেকে ভিন্ন মি. পাল। এখানে প্রতিটি রাজ্য অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছামত কাজ করে থাকে। নির্বাচন পদ্ধতি তার একটি। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে স্বয়ং মার্কিন রাজনীতিকরা অভিযোগ করে থাকেন। এবার দু'পক্ষই কারচুপির সম্ভাবনার কথা বলছেন, ভোট গণনে বিভ্রান্তির কথা বলছেন। সে কারণে ২০০০ সালের মত এবারও কিন্তু পুরো বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
এবারে এইচএসসি পরীক্ষা হবে না, ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হবে শিক্ষার্থীদের
করোনাভাইরাস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্কট নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষিরা কলেজ থেকে মোহাম্মদ আব্দুল মাতিন:
''শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট পাঠিয়ে দেবেন, এবং অনলাইনেই উত্তর সংগ্রহ করে জমা দেবেন এবং উত্তর সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবেন কর্তৃপক্ষ। মূল্যায়নে যে সব চিত্র পাওয়া যাবে, পরবর্তী বছরে সে বিষয়ে জোর দেবেন তারা।
তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর রশীদ বলেছেন যে,অনার্স ৪র্থ বর্ষের বাকী ৩/৪ টা পরীক্ষা তো হবেই এবং ১ম,২য়,৩য়, বর্ষের সকল শিক্ষার্থীদের পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন কি একথা ও বলা হয়েছে যে,অটো পাশের সুযোগ নাই। আমার প্রশ্ন, ২য় ও ৩য় বর্ষের পরীক্ষা এক বারে দেওয়া কি ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে আদৌ সম্ভব হবে?''
সম্ভব হবে বলে তো আমার মনে হয় না মি. মাতিন। কিন্তু সবই নির্ভর করবে কর্তৃপক্ষ কীভাবে পাঠ্য কার্যক্রম তৈরি করেন, এবং ছাত্র-ছাত্রীরা প্রস্তুতি নেবার কতটুকু সময় পায়, তার ওপর। কিন্তু এগুলোর বাইরে নিশ্চয়ই আরো জটিলতা আছে, যেগুলোর সমাধান করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তবে এটুকু বলা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের মুখে না ফেলাই ভাল হবে।
ছবির উৎস,NURPHOTO
ছবির ক্যাপশান,
পরীক্ষায় পাশের ফল পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের এরকম উৎসব আবার কবে দেখা যাবে?
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবারে লিখেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ মাসুদ রানা:
''সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কমানোর জন্য অথচ সেই শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট -টিউশনি চালিয়ে যাচ্ছে একসাথে গাদা গাদি করে, পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছে, হাট -বাজারে মাস্ক পরিধান ছাড়াই অবাধে চলাচল করছে। অথচ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দেওয়া হল। আবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের ঘোষণা দেওয়া হলো। সবকিছুই যখন স্বাভাবিক নিয়মে চলছে তখন শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের এই হঠকারিতায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় দীর্ঘমেয়াদী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে না
ফ্রান্স হামলা: হামলাকারী কয়েক দিন আগে তিউনিসিয়া থেকে এসেছিল
ছবির উৎস,EPA
ছবির ক্যাপশান,
ফ্রান্সের নিস শহরে নটরড্যাম গির্জার বাইরে সশস্ত্র ফরাসি পুলিশের প্রহরা।
ফ্রান্সের একটি গির্জায় যে ব্যক্তি দুই নারীসহ তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে, তিনি কয়েকদিন আগে তিউনিসিয়া থেকে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত ২১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ইতালির রেড ক্রসের কাগজ উদ্ধার করা হয়। গত মাসে এক অভিবাসীবাহী নৌকায় ইতালির ল্যাম্পেডুসা দ্বীপে আসার পরে ওই কাগজটি তাকে দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ তাকে গুলি করায় তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন।
নিস শহরের নটরড্যাম গির্জায় বৃহস্পতিবারের হামলার শিকার একজনকে প্রায় শিরশ্ছেদ করা হয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেছেন যে এটি একটি "ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী হামলা"।
মি. ম্যাক্রঁ বলেন, "গির্জা এবং স্কুলের মতো জনসমাগম স্থানগুলোতে সুরক্ষার জন্য সৈন্য সংখ্যা তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে সাত হাজার করা হবে। দেশটিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।"
Skip YouTube post, 1ভিডিওর ক্যাপশান:সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে
End of YouTube post, 1
বৃহস্পতিবারে ছুরিকাঘাতের এই ঘটনা এ মাসের শুরুর দিকে প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমের একটি স্কুলের কাছে আরও একটি হামলার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।
কয়েকজন ছাত্রকে নবী মোহাম্মদের বিতর্কিত কার্টুন দেখানোর কারণে কয়েকদিন পর স্যামুয়েল প্যাতি নামে একজন শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ড ফ্রান্সে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। মি. ম্যাক্রঁ কার্টুন প্রকাশের অধিকার রক্ষায় কট্টোরবাদী ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তুরস্ক ও অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
নিস হামলার সন্দেহভাজনকে পুলিশ গুলি করার আগে সে বারবার "আল্লাহু আকবর" বলে চিৎকার করছিল বলে জানা গেছে।
বর্তমানে, সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটররা এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।
হামলাকারীর কাছ থেকে একটি কোরান, দুটি টেলিফোন এবং একটি ১২ ইঞ্চি ছুরি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধান সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটর জ্যঁ-ফ্রাসোয়া রিকার্ড।
"আমরা হামলাকারীর একটি ব্যাগও পেয়েছি। এই ব্যাগের পাশে দুটি ছুরি ছিল যা আক্রমণে ব্যবহৃত হয়নি," তিনি আরও বলেন।
পুলিশ সূত্র বলছে হামলাকারীর নাম ব্রাহিম আউইসাউই।
ছবির উৎস,CHRISTIAN ESTROSI
ছবির ক্যাপশান,
হামলার পরে গির্জার আশেপাশের এলাকা ঘেরাও করা হয়।
নিস সফরের পরে, মি. ম্যাক্রঁ তার বক্তব্যে বলেন: "যদি আমাদের আবারও আক্রমণ করা হয় তবে সেটা হবে আমাদের স্বাধীনতার মূল্যবোধের ওপর হামলা, আমাদের মাটিতে মুক্তভাবে চলার ওপর হামলা, যা কোন সন্ত্রাসবাদের সামনে মাথানত করবে না।
"আমি আবারও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা কোনও কিছু সমর্পণ করব না।"
বৃহস্পতিবার আরও দুটি জায়গায় হামলা হয়েছে, একটি দক্ষিণ ফ্রান্সে এবং আরেকটি সৌদি আরবে।
পুলিশকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হুমকি দেওয়ার পর ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় আভিগনন শহরের কাছে মন্টফ্যাভেটে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের জেদ্দায় ফরাসী কনস্যুলেটের বাইরে এক প্রহরীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত এক সন্দেহভাজনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। আহত প্রহরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে গির্জার ভেতরে ওই তিনজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।
দু'জন গির্জার ভেতরেই মারা যান। ৬০ বছর বয়সী এক নারীর প্রায় শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল, এবং ৫৫ বছর বয়সী ব্যক্তির গলা কাটা হয়।
হামলার শিকার ওই ব্যক্তি গির্জার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
৪৪ বছর বয়সী অপর এক নারী বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েও পাশের একটি ক্যাফেতে পালাতে সক্ষম হন, তবে পরে তিনি মারা যান।
পরে জানা যায় যে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী অ্যালার্ম বাড়াতে সক্ষম হন। নাগরিকদের বিশেষ সুরক্ষা দিতে নগর কর্তৃপক্ষ এই অ্যালার্মটি স্থাপন করেছিল।
গির্জার কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দা ক্লোই বিবিসিকে বলেছেন: "আমরা রাস্তায় অনেক লোকজনকে চিৎকার করতে শুনেছি। আমরা জানালা থেকে দেখলাম যে সেখানে অনেক অনেক পুলিশ এসেছে, এবং অনেক গুলির শব্দও পাই।"
চারজন পুলিশ কর্মকর্তা স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং হামলাকারীকে গুলি করে তাকে আটক করা হয় বলে পরেই সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটর জানান।
চার বছর আগে ফ্রান্সের এই নিস শহর ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছিল।
২০১৬ সালের ১৪ই জুলাই বাস্তিল দিবসের দিন একজন তিউনিসীয় জনতার ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে ট্রাক চালিয়ে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৮৬জন নিহত হন।
ফ্রান্সসহ ইউরোপের প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, মিশর, কাতার এবং লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এই হামলার নিন্দা জানায়।
Skip YouTube post, 2ভিডিওর ক্যাপশান:সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে
বিদেশি মদ ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে এক বছরের কারাদণ্ড
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
বাংলাদেশে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনার জের ধরে বিদেশি মদ রাখার দায়ে এক ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী - দু'জনের প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে।
পুরনো ঢাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে র্যাব ছেলে ইরফান সেলিমকে গ্রেফতার করেছে।
বাড়িটিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে অভিযানের পর র্যাবের মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ্ জানিয়েছেন, অবৈধ ওয়াকিটকি এবং বিদেশি মদ উদ্ধার হওয়ায় ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী মো. জাহিদকেআটক করা হয় এবং র্যাবের সাথে থাকা আদালত দু'জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়।
এই অভিযানে দু'টি অবৈধ অস্ত্র, গুলি, হাতকড়া এবং বাড়ির পাশে একটি টর্চার সেলও পাওয়া গেছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
ইরফান সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
এদেরকে আটক করার লক্ষ্যে দুপুর থেকে হাজি সেলিমের বাড়িটিকে ঘিরে অভিযান চলে।
মারধরের শিকার লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান নামে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সোমবার সকালে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামীদের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ইরফান সেলিমের নাম।
ধানমন্ডি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আশফাক রাজীব হাসান বলছেন, মামলার এজাহারে আসামীদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পথরোধ করে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা আসামীদের মধ্যে ইরফান সেলিম ছাড়াও এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ এবং গাড়ি চালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করা আছে। এছাড়া ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামীর কথাও বলা আছে।
গাড়ি চালক মিজানুর রহমানকে আগেই আটক করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে বেআইনিভাবে পথরোধ, সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি এবং হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে মোটরসাইকেল আরোহী ওই নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধর করা হয় রবিবার রাতে।
খবরে বলা হচ্ছে, তিনি সস্ত্রীক মোটরসাইকেলযোগে ফিরছিলেন। এসময় একটি গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগার পর গাড়িটি থেকে অভিযুক্তরা নেমে এসে ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেন।
এমনকি তিনি নিজের পরিচয় দেয়ার পরও অভিযুক্তরা মারধর অব্যহত রেখেছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।
গাড়িটিতে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো ছিল বলে খবরে বলা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এরইমধ্যে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে যাতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তার ওপর হওয়া হামলার বর্ণনা দিচ্ছেন।
তিনি বলছেন, তাকে বিনা কারণে একতরফাভাবে আঘাতের পর আঘাত করা হয়। এতে তার একটি দাঁতও ভেঙ্গে যায়।
তার স্ত্রীর গায়েও হাত তোলা হয়েছে বলে ভিডিওতে তিনি দাবি করেন।
এই ভিডিওটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে ভিডিওর এই ব্যক্তিকে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে ইরফান সেলিমের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
কৃষ্ণাঙ্গ ছেলেবন্ধুর সন্তান গর্ভে ধারণ করায় কীভাবে ঘর ছাড়তে হলো বাঙালি মেয়েকে
আশনি লাখানি
বিবিসি নিউজ
ছবির ক্যাপশান,
কৃষ্ণাঙ্গ ছেলেবন্ধুর সন্তান গর্ভে ধারণ করায় ঘর ছাড়তে বাধ্য হন সালমা।
কৃষ্ণাঙ্গ একজন ছেলেবন্ধুর সন্তান গর্ভে ধারণ করার ফলে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন সালমা - এক ব্রিটিশ-বাঙালি তরুণী।
এ ঘটনার মধ্যে দিয়েই তার পরিবারের কৃষ্ণাঙ্গ-বিরোধী মানসিকতার মুখোমুখি হবার অভিজ্ঞতা হয় সালমার।
তার পেছনে যখন মায়ের বাড়ির দরজা সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল - সালমা বুঝেছিলেন কী অবস্থার মধ্যে পড়েছেন তিনি। একুশ বছরের তরুণী, দু মাসের গর্ভবতী, এবং এখন - একজন 'হোমলেস'। গৃহহীন।
কারণ একটাই। একজন বাঙালি নারী হয়ে তিনি একটি কালো লোকের সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন।
সালমার সমাজে বাঙালি মেয়েদের সাধারণত: মিশ্র বর্ণের - বিশেষভাবে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষের সাথে বিয়ে হয় না, বিয়ের বাইরে সন্তান ধারণ তো বহু দূরের কথা।
যেদিন সালমা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন, সেদিন তার খালা পুরো সকাল ধরে তাকে অনুনয় করেছেন, আরেকবার গর্ভপাত করিয়ে ফেলতে।
কারণ সালমা এর আগে আরেকবার সন্তানসম্ভবা হয়েছিলেন এবং গর্ভপাত করিয়েছিলেন।
তবে সালমার কথা - তখন তার বয়স ছিল কম। কিন্তু এখন গর্ভপাত করাবেন কিনা সেই সিন্ধান্ত নেবেন তিনি নিজে, অন্য কেউ নয়।
"আমি চাইছিলাম, যে কোন ভাবেই হোক এ সন্তান আমি নেবোই। হ্যাঁ, এর মানে হচ্ছে আমার পরিবার, কেরিয়ার সবকিছুই আমাকে ছাড়তে হবে। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, এ ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই," বলছিলেন সালমা।
মা কাঁদছেন
বাড়ি থেকে বেরিযে যাবার আগের মুহূর্তে সালমা দেখতে পেয়েছিলেন, তার মা কাঁদছেন। তার চোখের পানি ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে সামনে রাখা আধা-খাওয়া রুটির ওপর।
"আমি জানি, মা-র মনে হচ্ছিল আহা যদি তার মেয়ের পেটের বাচ্চাটা কোন বাঙালির হতো। তাহলে তিনি সেই ছেলের পরিবারকে ফোন করতে পারতেন, একটা বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারতেন, তাহলে ব্যাপারটা আর 'অবৈধ' থাকতো না।"
কিন্তু এই সন্তানটির পিতা যে কৃষ্ণাঙ্গ।
ছবির ক্যাপশান,
সালমার মা ব্রিটেনে এসেছিলেন বাংলাদেশ থেকে।
সালমা অন্য আত্মীয়-স্বজনদের এ নিয়ে কথা বলার বা তাদের বাড়িতে আসার সুযোগও দেননি। তিনি তার গোলাপি নোকিয়া ৩২১০ ফোনটি তুলে নিয়ে সোজা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন।
তার কথা, তিনি গর্ভপাত করাবেন না, এবং এই সন্তান রাখার সিদ্ধান্ত যে পরিবার সমর্থন করে না তাদের সাথে তিনি থাকবেনও না।
পাশের বাড়ির ছেলে
সালমার প্রেমের গল্পকে বলা যায় 'ক্লাসিক লাভ স্টোরি'।
ছেলেটি থাকতো পাশের বাড়িতে। আর সালমা প্রেমে পড়তে উন্মুখ এক সহজ-সরল মেয়ে।
যদিও দক্ষিণ এশীয়রা শত শত বছর ধরে বর্ণবাদের মোকাবিলা করেছেন, কিন্তু এই সম্প্রদায়ের মধ্যেই - অন্য আরো কমিউনিটির মতোই - কালো-বিরোধিতা বা কৃষ্ণাঙ্গ লোকদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করা অত্যন্ত ব্যাপক।
সালমাকে কোন বাঙালি আন্টি কখনো সরাসরি বলেননি যে "কালোরা খারাপ লোক"। বরং কালোর ব্যাপারে এই বৈরিতা স্পষ্ট হয়ে উঠতো শৈশব থেকে সাধারণ নানা পারিবারিক কথাবার্তায়। যেমন "বাইরের রোদে যেওনা গায়ের রং কালো হয়ে যাবে," বা "ওই মেয়েটা ফর্সা, ওর বিয়ের প্রস্তাবের কোন অভাব হবেনা।"
সালমার মা এসেছিলেন বাংলাদেশ থেকে। সেখানে যে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রথার মধ্যে তিনি বাস করেছিলেন - তার প্রভাবে এ ধারণা মজ্জাগত হয়ে গিয়েছিল যে ফর্সা রঙ মানেই শ্রেয়তর। শুধু তাই নয়, এর সাথে ছিল কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের সম্পর্কে বদ্ধমূল হয়ে যাওয়া সবচেয়ে খারাপ ধারণাগুলো।
"ওরা শুধু তোমাকে গর্ভবতী করতে চায়," ১৬-বছরের সালমাকে বলেছিলেন তার মা। মেয়েকে জড়িয়ে ধরে তিনি তার পেটে হাত দিয়েও দেখেছিলেন। পাশের বাড়ির ছেলেটির সম্পর্কে পারার পরে তিনি বলেছিলেন, "ওদের কাছে তুমি দাম পাবে না।"
কিন্তু যখন তিন-তিনজন শ্বেতাঙ্গ মহিলা এই পরিবারেই বিয়ে করেছিলেন - তখন কেউ এরকম কোন কথাই বলেনি।
অভিবাসীর স্বপ্ন
সালমার বাবা-মা লন্ডনে এসেছিলেন ত্রিশ বছর আগে। বাংলাদেশ থেকে এসে তারা উঠেছিলেন লন্ডনের এমন একটি হাউজিং এস্টেটে যা ছিল বিলাসবহুল দোকান হ্যারডস থেকে হাঁটা পথ দূরে।
অভিবাসীবাসীদের স্বপ্নের জীবন হাতে পেয়েছিলেন তারা।
"আমাদের একটা হ্যারডসের শপিং ব্যাগ ছিল - আর সেটা ছিল পরিবারের একটা মূল্যবান জিনিসের মতো। ওটাকে সুন্দর করে ভাঁজ করে রান্না ঘরে রেখে দেয়া হতো, আর বাড়িতে কোন অতিথি এলে তা বের করা হতো। তারা জানতেন না যে ওই ব্যাগটা দেয়া হতো হ্যারডসের সবচেয়ে সস্তা জিনিসটা কেনার সময় - আর তা হলো চীনাবাদাম" - বলছিলেন সালমা।
সালমার বাবা-মা আলাদা হয়ে যাবার ব্যাপারটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সেদিন - যেদিন তার নিজের চাবিটা দিয়ে বাড়ির সদর দরজা খোলা যাচ্ছিল না।
মা আর মেয়ে মিলে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সেই ফাঁকে বাবা বাড়ির সদর দরজার তালাটা পাল্টে ফেললেন। দুটি সন্তান নিয়ে সালমার মা হয়ে গেলেন গৃহহীন।
বিবাহবিচ্ছেদের কারণে তার মাকে তার নিজের সমাজেই খারাপ চোখে দেখা হতো। কিন্তু যারা বাঙালি নয়, তাদের মধ্যেও তিনি 'বাইরের লোক' হিসেবেই রয়ে গেলেন।
"মায়ের সবচেয়ে বড় ভয় ছিল যে আমার পরিণতিও তার মতোই হয় কিনা" - বলছিলেন সালমা।
"তা সত্বেও আমি দমে যাইনি। আমি আমার সংস্কৃতি, কর্মজীবন আর নিজ সমাজকে ত্যাগ করতে প্রস্তুত হলাম, একজন কৃষ্ণাঙ্গ লোকের জন্য। আমি জানতাম তার সাথে অন্য মেয়েদের সম্পর্ক আছে, তার কখনোই আমাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল না। এখন সে আমাকে একটি কন্যা সন্তান দিয়েছে। আমার মা মনে করেন, তাকে লালনপালন করার কোন ক্ষমতা আমার নেই।"
শিশু সন্তান নিয়ে আবার মায়ের কাছে ফেরা
সালমার কন্যাসন্তান জন্মের এক সপ্তাহ পরই তিনি তার মায়ের বাড়িতে এলেন।
জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখলেন, ভেতরে বড়দিনের আলোকসজ্জা করা হয়েছে, পাওয়া যাচ্ছে মুরগির রোস্টের গন্ধ।
কোলের শিশুটিকে সামলে তিনি কলিংবেল টিপলেন।
দরজা খুলে দিল তার ভাই। বোনের কোলে ছোট বাচ্চাটিকে দেখে সে উল্লসিত হয়ে উঠলো।
ভয়ে ভয়ে বাড়িতে ঢুকলেন সালমা। তিনি ভাবছিলেন, তার বাচ্চাকে দেখে মা কি জানি কি আচরণ করেন। তবে তার প্রিয় ইংলিশ খাবার রোস্ট চিকেনের গন্ধটা থেকে মনে হচ্ছিল - লক্ষণ ভালো। কারণ এ পরিবারে মৈত্রী স্থাপনের উপায় হচ্ছে খাবার।
সালমা তার মেয়েকে আরেকটি ঘরে শুইয়ে রেখে খাবার টেবিলে এসে বসলেন। মা তাকে চিকেন পরিবেশন করলেন, কিন্তু তাদের মধ্যে চোখাচোখি হচ্ছিল না।
এমন সময় পাশের ঘর থেকে বাচ্চাটি কেঁদে উঠলো। সালমা ওঠার উপক্রম করতেই তার মা তাকে ধামিয়ে দিয়ে বললেন, "আমি যাচ্ছি"। একটু পরই বাচ্চার কান্না থেমে গেল। মা তার নাতনিকে এই প্রথম কোলে নিয়েছেন। সালমার চোখে পানি এসে গেল।
তিনি বুঝলেন, কালোদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা না থাকলেও তার কন্যাসন্তানকে ভালোবাসতে পারবেন তার মা। তিনি চাইছিলেন এটাই - তার মায়ের সাহায্য এবং বাড়িতে ফিরে আসার সুযোগ।
"কয়েকদিনের মধ্যেই মা আমার শিশু সন্তানের জন্য মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী যা যা করণীয় তা সম্পন্ন করলেন, আমার মেয়েকে আশীর্বাদ করলেন।"
সালমা বাড়ি ছেড়ে যাবার পরের কয়েক মাসে কী হয়েছিল তা নিয়ে তাদের মধ্যে কোন কথাই হলো না।
বিপর্যয়
বিপর্যয় আঘাত হানলো পাঁচ সপ্তাহ পরই।
সালমা জানতে পারলেন, তার ছেলে বন্ধুটি পুরো সময়টা জুড়েই অন্য আরেক নারীর সাথে ছিল, এবং সেই নারীও একটি সন্তান প্রসব করেছে।
ব্যাপারটা এমন যে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের ব্যাপারে সালমার মা যে ভয়টা করতেন - তা-ই যেন সত্যি হয়ে এলো। তার বদ্ধমূল ধারণাগুলো সঠিক বলে নিশ্চিত হয়ে গেল।
ছবির ক্যাপশান,
"তুমি আরেকটু ফর্সা কাউকে বেছে নিলেই তো পারতে" - সালমাকে বলেন তার এক আত্মীয়।
এ নিয়ে এক নিরব উত্তেজনা আর ক্রোধ সালমার জীবন বিষিয়ে তুললো - তিনি গভীর বিষণ্নতায় আক্রান্ত হলেন।
"আমার মায়ের জন্য ব্যাপারটা দাঁড়ালো এরকম যেন তাকে দুটি সন্তানের যত্ন নিতে হচ্ছে - একটি আমি নিজে, আরেকটি আমার মেয়ে। তিনি আমাদের ঘুম থেকে জাগাতেন, খাওয়াতেন, যত্ন নিতেন এবং অন্য সবার কাছ থেকে আমাদের আড়াল করে রাখতেন।"
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সালমা কবিতা লিখতেন, পড়াশোনা করতেন। সন্তান জন্মের সাত মাস পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যজুয়েশন শেষ করলেন। তিনি জানেন তার মায়ের সহায়তা ছাড়া কখনো এটা সম্ভব হতো না, তবে এ কথা তার মাকে তিনি কখনো বলেননি।
সালমার মা তখনো তার মেয়ের বেছে নেয়া জীবন সমর্থন করতেন না। বিশেষ করে সালমা যখন তার ছেলে-বন্ধুর কাছে ফিরে যাওয়া এবং একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি করার পর দ্রুতই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সালমা। তার মায়ের প্রতি তিনি একই সাথে যে কৃতজ্ঞতা এবং বিরাগ বোধ করছিলেন তা তিনি প্রকাশ করতে পারেননি।
অপ্রত্যাশিত মোড় বদল
এর পরের কয়েক বছরে সালমার জীবনে আরো কিছু ঘটনা ঘটলো যা তিনি আশা করেন নি।
সেই একই ছেলেবন্ধুর সাথে তার আরেকটি সন্তান হলো। তবে এর পর লোকটি তাকে একেবারেই ছেড়ে গেল।
সালমা তখন তার যৌথ পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথেও সম্পর্ক পুনপ্রতিষ্ঠা করতে শুরু করলেন - যারা এর আগে তার এবং তার সন্তানদের ত্যাজ্য করেছিল। তাদের একজন তো সালমার কাছে গর্ভপাতের পক্ষে কথা বলার জন্য দু:খ প্রকাশও করলেন।
তবে সালমার আত্মীয়দের কথাবার্তায় কৃষ্ণাঙ্গ-বিরোধী মানসিকতা কখনো পুরোপুরি দূর হয়ে যায়নি।
"ভালো হয়েছে যে ওরা বেশিরভাগ তোমার মতোই দেখতে হয়েছে" - তার মা বলেছিলেন, "ওই ছেলেটি তো তোমাকে এক সময় ছেড়ে যেতোই।"
সালমা বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন যে এসব কথা কত অপমানজনক, কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি।
তবে সালমার নিজের সন্তানরা যথন বড় হতে লাগলো, তখন তিনি তার মায়ের উদ্বেগগুলো অনেক সহজে বুঝতে পারতেন।
"আমি এখন বুঝি যে ভালোবাসা আর সুরক্ষার জায়গা থেকেই এটা এসেছিল," বলেন তিনি, "চূড়ান্ত বিচারে তিনি তাই করছিলেন যা থেকে তার মেয়ের সুখ ও শান্তি মিলবে বলে তাকে শেখানো হয়েছিল।"
তবে সালমা যে তার মায়ের কৃষ্ণাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবকে চ্যালেঞ্জ করেননি তা নয়।
একদিন তিনি তার মাকে বলেছিলেন, "সে কালো বলেই তো তুমি এরকম করছো, তাই না?"
"না" - তার মা শান্তভাবে জবাব দিয়েছিলেন, "কালো বলে নয়, আসল কারণ সে মুসলিম ছিল না। সে আমাদেরকে বুঝতে পারেনি।"
সালমা স্তব্ধ হয়ে তার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এই প্রথম তার মা ধর্মের ওপর এতটা জোর দিচ্ছেন। কিন্তু যে তিনজন অমুসলিম মহিলাকে এ পরিবারে বউ হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছিল - সেটা তাহলে কী?
সালমা এখন মনে করেন, তার মা ওই কথাটার মধ্যে দিয়ে মুখে না বললেও একভাবে স্বীকার করে নিয়েছিলেন তার কৃষ্ণাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের কথা।
"আমার মনে হয় ওই মুহূর্তে তিনি বুঝেছিলেন গায়ের রঙের ভিত্তিতে তৈরি ওই সব বদ্ধমূল বিরূপ ধারণাগুলো আসলে কতবড় অন্যায়। এবং সেজন্যই তিনি কথাটা ঘুরিয়ে ধর্মের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন।"
তার পর ওই পরিবারে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে।
কয়েক মাস আগে সালমার ভাই একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার সাথে প্রেম করতে শুরু করেন। সালমাকে বিস্মিত করে তার মা একটুও ইতস্তত: না করে ব্যাপারটা মেনে নিলেন।
"আমি বলবো, যে মহিলা কখনো তার কৃষ্ণাঙ্গ বিরোধী মানসিকতার কথা স্বীকার করেননি বা এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি - তার জন্য এটা একটা অগ্রগতি।"
সালমা বলছেন, "মা যতদূর এগিয়ে এসেছেন তার জন্য আমি গর্বিত, তবে আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে।"
"ওই মানসিকতার জন্য আমি তাকে দোষ দিচ্ছি না, তবে এখন এটা চ্যালেঞ্জ করার সময় এসেছে, শুধু আমার একার দিক থেকে নয়, কমিউনিটি হিসেবেও।"
রাজনীতি গবে’ষণা বলছে দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনার স’রকারে সন্তুষ্ট
রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল (আরআই) নামে একটি বেস’রকারি গবে’ষণা প্রতিষ্ঠান তাদের গবে’ষণায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স’রকার পরিচালনায় দেশের ৮৫ ভাগ মানুষ সন্তুষ্ট।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান স’রকারের প্রথম এক বছরের কার্যক্রমের ও’পর পরিচালিত জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মতামত প্রদানকারীদের মধ্যে ৮০ ভাগ উত্তরদাতা জানিয়েছে, বর্তমান মেয়াদের প্রথম এক বছর আগের তুলনায় ভালো।
তবে আরআই জানায়, এর ভে’তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন স’রকারের ও’পর অসন্তোষ প্রকাশ করেন জরিপে অংশ নেয়া শতকরা ৩ ভাগ উত্তরদাতা। রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান স’রকারের প্রথম এক বছরের কার্যক্রম’ সম্প’র্কে পরিচালিত জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী গবেষক অধ্যাপক আবুল হাসনাত মিল্টন,
প্রধান সমন্বয়কারী কর্মকর্তা কাজী আহম’দ পারভেজ ও সমন্বয়কারী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। জরিপের ফলা প্রকাশের সময়ে অধ্যাপক আবুল হাসনাত মিল্টন বলেন,গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণে দেশবাসীকে তার ও’পরে আস্থা রাখতে বলার প্রেক্ষিতে শতকরা ৮৬ ভাগ উত্তরদাতা জানান, তারা তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) ও’পর আস্থা রাখেন, মাত্র ৩ ভাগ আস্থাহীনতার কথা জানান এবং ১১ ভাগ মতামত প্রকাশ করেননি।
জরিপের ত’থ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, স’রকারের বিভিন্ন ম’ন্ত্রণালয়ের সফলতার বি’ষয়ে পরিচালিত জরিপের ফলাফলে বলা হয়, সবচেয়ে কার্যকরি ম’ন্ত্রণালয় হিসেবে শতকরা ৩০ ভাগ উত্তরদাতা শিক্ষা, ২৮ ভাগ উত্তরদাতা সড়ক পরিবহন সেতু,
৯ ভাগ উত্তরদাতা ত’থ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি এবং বাকীরা অন্যান্য ম’ন্ত্রণালয়কে বেছে নেন। দক্ষ’তা ও সাফল্যের প্রেক্ষিতে মন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন যথাক্রমে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (৩৬ ভাগ) এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি (২৯ ভাগ)।জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ উত্তরদাতা বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোন আলোচনা করতেই চাননি এবং ২৫ ভাগ উত্তরদাতা বিএনপির কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্ট, মাত্র ৬ ভাগ উত্তরদাতা বিএনপির কার্যক্রমে সন্তুষ্ট বলেও এতে বলা হয়।
এর মধ্য দিয়ে জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাটির মনে হয়েছে, রাজনীতিতে বিএনপি গুরুত্ব হারাচ্ছে। জাতীয় পার্টির ব্যাপারেও উত্তরদাতাদের মধ্যে আ’গ্রহ কম পরিলক্ষিত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে শতকরা ৪৮ ভাগ উত্তরদাতা দেশে একটি শ’ক্তিশালী বি’রোধীদল থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, ৩২ ভাগ মনে করেন দরকার নেই এবং ২০ ভাগ মতামত প্রদান করেন নি। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, দেশব্যাপী দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৮ হাজার ৩৯ জন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে পরিচালিত টেলিফোন জরিপে ৫ হাজার ৪শ’২৯ জন ফোন গ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ২ হাজার ২শ’ ৬৬ জন অর্থাৎ শতকরা ৪১ দশমিক ৭ ভাগ অংশগ্রহণকারী তাদের মতামত প্রদান করেন।
মৃত নবজাতক জীবিত: ঢাকা মেডিকেলে মৃত ঘোষণার পর দাফনের আগে নড়ে উঠলো শিশু, এখন এনআইসিইউতে
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
দীর্ঘ সময় শিশুটির প্রাণস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ( ছবিটি প্রতীকি অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে)
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভোরে জন্মের কয়েক ঘণ্টা পর শিশুটির ঠিকানা হতে যাচ্ছিলো মোহাম্মদপুরের বসিলা কবরস্থান।
কিন্তু ঠিক দাফনের আগেই নড়ে ওঠায় এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া নবজাতককে রক্ষা করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।
নবজাতকের বাবা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ইয়াসিন মোল্লা বিবিসি বাংলাকে বলছেন কবরের কাছ থেকে ফিরে আসার পর তার সন্তান এখন হাসপাতালে নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউতে আছে।
"এখন সবাই চেষ্টা করছে বাচ্চাটার জন্য। আমি আর কোনো অভিযোগ করতে চাই না, আপনারা যা শুনেছেন সবই সত্যি," মিস্টার মোল্লা বলছিলেন।
গর্ভবতী স্ত্রী শাহিনুর বেগমকে তিনদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন ইয়াসিন মোল্লা।
আজ ভোরে স্বাভাবিকভাবেই সন্তান প্রসব করেন শাহিনুর বেগম, কিন্তু জন্মের পরপরই নবজাতক কন্যা সন্তানটিকে মৃত ঘোষণা ক'রে বাবা ইয়াসিন মোল্লার হাতে তুলে দেন সেখানে তখন দায়িত্বরত চিকিৎসক।
একটি প্যাকেটে করে বাচ্চাকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে বসিলায় কবরস্থানে যান মি. মোল্লা। কিন্তু দাফনের আগেই নড়ে ওঠে শিশুটি।
ইয়াসিন মোল্লা বলছেন তিনি তখনি আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফেরত নিয়ে আসেন তার নবজাতক সন্তানকে।
"এরপর থেকে মেয়ে আমার আইসিইউতে আছে। ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করছেন। যতটুকু বুঝি এখনো ভালো আছে মেয়ে," বিবিসিকে বলছিলেন তিনি।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলছেন বাচ্চাটি অনেক অপরিণত অবস্থায় জন্ম নিয়েছিল।
"কয়েক ঘণ্টা শিশুটিকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছিলো। কিন্তু তার কোনো স্পন্দন ছিল না। এমনকি বাচ্চা কাঁদেওনি। শ্বাস প্রশ্বাস ছিল না। নিয়মানুযায়ী সব চেষ্টার পরেও হৃৎস্পন্দন দেখা না যাওয়ায় বাচ্চাটিকে শিশুর বাবার কাছে দেয়া হয়েছিল," বলছেন তিনি।
পরে বাচ্চাটির স্পন্দন আসায় আবার তাকে হাসপাতালে আনার পর থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলার জন্য।
"ওকে এখন নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে সব ধরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের দিক থেকে যা যা করার সব আমরা করছি," বিবিসি বাংলাকে বলেন হাসপাতালের পরিচালক।
ধর্ষণ: বাংলাদেশ ছাড়া আরও যেসব দেশে এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড
ছবির উৎস,NURPHOTO
ছবির ক্যাপশান,
বাংলাদেশে গত দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকাসহ অনেক জায়গাতেই ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করা হচ্ছে
গত ১২ই অক্টোবর বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যোগ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।
এর পরদিন এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশে সই করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, যার ফলে সংশোধিত আইনটি কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণ, ধর্ষণ জনিত কারণে মৃত্যুর শাস্তি প্রসঙ্গে ৯(১) ধারায় এতদিন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
তবে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা দল বেধে ধর্ষণের ঘটনায় নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা আহত হলে, সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সেই সঙ্গে উভয় ক্ষেত্রেই ন্যূনতম এক লক্ষ টাকা করে অর্থ দণ্ডের বিধানও রয়েছে।
সেই আইনে পরিবর্তন এনে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থদণ্ডের বিধানও থাকছে।
এর ফলে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দেয়া সপ্তম দেশ হলো বাংলাদেশ।
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মঙ্গলবার অধ্যাদেশে সই করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশ ছাড়া আর যেসব দেশে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
ভারত
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে পাস করা এক নির্বাহী আদেশে ভারতে ১২ বছরের কম বয়সী মেয়ে শিশু ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়। ওই সময়ে ভারতজুড়ে চলতে থাকা ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ভারতের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের কারণে যদি ভুক্তভোগী মারা যান অথবা এমনভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন যে তিনি কোনো ধরণের নাড়াচাড়া করতে অক্ষম, সেই ক্ষেত্রেও অপরাধীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ধর্ষণ প্রমাণিত হলে ন্যুনতম দশ বছর শাস্তির বিধান রয়েছে ভারতের আইনে।
পাকিস্তান
পাকিস্তানের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ধর্ষণ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। ভারতের মত পাকিস্তানের আইনেও ধর্ষণ প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন ১০ বছর কারাদণ্ডের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া দুই বা অধিক ব্যক্তি একই উদ্দেশ্য নিয়ে ধর্ষণের মত অপরাধ সংঘটন করলে বা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করলে, প্রত্যেকের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে পাকিস্তানের পেনাল কোডে।
গত মাসে একটি হাইওয়েতে হওয়া এক ধর্ষণের ঘটনায় পাকিস্তানে তোলপাড় তৈরি হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ধর্ষকদের জনসম্মুখে হত্যা কিংবা রাসায়নিক প্রয়োগ করে খোজা করার পক্ষে তার মতামত প্রকাশ করেছিলেন।
ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখার পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হলেও তিন বছর পর্য্ত কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে পাকিস্তানে।
সৌদি আরব
সৌদি আরবের শরিয়া আইনে ধর্ষণ একটি ফৌজদারী অপরাধ এবং এর শাস্তি হিসেবে দোররা মারা থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সৌদি আরবে ১৫০টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যার মধ্যে আটটি ছিল ধর্ষণ অপরাধের জন্য।
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
বাংলাদেশ ছাড়া আরও ৬টি দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
ইরান
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ইরানে মোট ২৫০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে ধর্ষণের দায়ে।
অ্যামনেস্টি বলছে, চীনের পর পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়ে থাকে ইরানে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, কোন নারীর সঙ্গে জবরদস্তিমূলক যৌনমিলনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
তবে দেশটির আইনে অপরাধ সংঘটনেরর সময় ভুক্তভোগীর বয়স ১৪ বছরের নিচে হলেই কেবল সেটিকে জোরপূর্বক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মৃত্যদণ্ড কার্যকর করা না হলেও অন্তত ১৮ জনকে হত্যা, ধর্ষণ ও সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে।
চীন
চীনে কোন নারীকে ধর্ষণ কিংবা ১৪ বছরের কম বয়সী কোন মেয়ের সঙ্গে যৌনমিলনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে যদি ঘটনার শিকার মারা যান অথবা মারাত্মকভাবে আহত হন।
সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে, ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী মারা গেলে বা মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে, অথবা পাবলিক প্লেসে ধর্ষণ হলে বয়স বিবেচনা ছাড়া মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে দেশটিতে। এছাড়া, অপরাধী একাধিক ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায়।
সাধারণ ক্ষেত্রে ধর্ষণ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম তিন বছর থেকে ১০ বছর কারাদণ্ডের শাস্তি রয়েছে চীনের আইনে।
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ধর্ষণের বিচার না পাওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরণের চরম হতাশা তৈরি হয়
বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা মন্তব্য করেছে 'চরম শাস্তি সহিংসতাকে অব্যাহত রাখে, তা প্রতিরোধ করে না।'
সংগঠনের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিশোধের দিকে মনোনিবেশ না করে যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীর সুবিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্ষণ মহামারি নির্মূলে এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে দীর্ঘমেয়াদে সংস্কার করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
একই সাথে অপরাধীদের শাস্তি যেন নিশ্চিত হয় এবং শাস্তি থেকে দায়মুক্তির সংস্কৃতি যেন বন্ধ হয়, সেদিকেও নজর দেয়ার তাগিদ দিয়েছে অ্যামনেস্টি।
যে কারণে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিরোধিতা করছে অ্যামনেস্টি
অ্যামনেস্টি'র সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, "পৃথিবীর কোনো বিচার ব্যবস্থাই ত্রুটিমুক্ত নয়। যার ফলে বিচার ব্যবস্থার ত্রুটিতে একজন মানুষের প্রাণ নিয়ে নেয়ার পর যদি জানা যায় যে ঐ ব্যক্তি নির্দোষ, তখন আসলে কিছু করার থাকে না।"
আর বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্ষণ এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলোর সাথে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো বা কমানোর সম্পর্ক খুব সামান্য বলে মনে করেন তারা।
"আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের সমস্যাটা পদ্ধতিগত। অর্থাৎ, আমাদের এখানে আইনে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা আছে। আর এই বিচার প্রক্রিয়া সংশোধন করা না হলে শাস্তি বাড়িয়ে-কমিয়ে আসল পরিস্থিতির উন্নয়ন করা সম্ভব না", বলেন মি. জাকারিয়া।
ছবির ক্যাপশান,
ধর্ষণের বিচার খুবই কম, হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভিকটিম, তবে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মৃত্যুদণ্ডকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে
তিনি বলেন, সরকারের নিজের হিসেবেই নারী নির্যাতনের মামলার একটা বড় অংশেরই শাস্তি হয় না। শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারার অন্যতম প্রধান একটি কারণ আইনের ফাঁক-ফোকর এবং সামাজিক চাপের কারণে ভুক্তভোগীদের আইনের সহায়তা না চাওয়া।
"সরকারের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা ২৬ ভাগ ঘটনায় আইনের সহায়তা নেয়, যার মধ্যে শাস্তি দেয়া হয় ০.৩৭ ভাগের।"
সুতরাং সুলতান জাকারিয়া মনে করেন যে শাস্তির মাত্রা বাড়ালেই যে এই চিত্র পরিবর্তন হবে, সে রকম মনে করার কোনো কারণ নেই।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের উপাত্ত উদ্ধৃত করে তিনি জানান, ২০০১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট ১,৫০৯ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের পর মারা গেছেন এবং ১৬১ জন আত্মহত্যা করেছেন। তিনি যোগ করেন যে এই সংখ্যাটি প্রকৃত চিত্র উপস্থাপন করে না, বরং যা ঘটছে এটি তার অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অংশ।
ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: কীভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন
Mashud
world news M 75
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
এ বছর সাগরে ও নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ
আজ বুধবার থেকে বাংলাদেশে ২২ দিনের জন্য ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইলিশ মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে গত বেশ কয়েক বছর ধরে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে। এই বছর নিষেধাজ্ঞা চলবে চৌঠা নভেম্বর পর্যন্ত। এই সময় মাছ ধরা, বিক্রি, বিপণন, মজুত ও পরিবহন নিষিদ্ধ থাকবে। এর লঙ্ঘন করা হলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
কিন্তু ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখার ফলে ইলিশের প্রজননে সেটা কি ভূমিকা রাখছে?
ইলিশ গবেষকরা বলছেন, এই সময়ে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষা করা, যাতে তারা নিরাপদে নদীতে ডিম ছাড়তে পারে। এই ডিম রক্ষা করতে পারলে তা নিষিক্ত হয়ে জাটকার জন্ম হবে। সেই জাটকা রক্ষা করা গেলে দেশে বড় আকারের ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ইলিশ বিষয়ক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলছেন, ঠিক এই সময়টাতে মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়তে শুরু করে। একটা মা ইলিশ চার থেকে পাঁচ লক্ষ ডিম ছাড়ে। আমাদের পরীক্ষা নিরীক্ষা বলছে, শুধুমাত্র গতবছরে অন্তত ৭ লাখ ৪০ হাজার কেজি ডিম ছাড়া হয়েছে। সেগুলো বড় হওয়ার সুফল এই বছর আপনারা দেখতে পেয়েছেন
ধর্ষণ নিয়ে ক্ষোভ, ক্রসফায়ার নিয়ে বিতর্ক আর রোহিঙ্গা নিয়ে প্রশ্ন
M 75নিউজ বাংলা
ছবির উৎস,BARCROFT MEDIA
ছবির ক্যাপশান,
ন্যায় বিচারের দাবী: নোয়াখালীতে নারী নির্যাতন-এর প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ।
আপনারা অনেকেই নিশ্চয়ই জানেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একজন নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং তার ওপর নির্যাতন চালানোর ভিডিও এই সপ্তাহে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
এই ঘটনা অনেক শ্রোতা-পাঠককে বিচলিত করেছে, বিক্ষুব্ধ করেছে। সে বিষয়ে চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে চরমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে কেবল তাই নয়, ঘটনার একমাস পর সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আত্মগোপনে থাকা ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটকও করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় একটি ঘটনা দীর্ঘ এক মাসেও কেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নজরে এলো না? কিন্তু যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সরকার কি তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারবে, না কি আইনের ফাঁক গলিয়ে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা বেরিয়ে যাবে?''
সেটাই বড় প্রশ্ন মি. সরদার। পুলিশ এত দিন নির্লিপ্ত ছিল নাকি ঘটনা সম্পর্কে অবগত ছিল না? যারা কাজটি করেছে তারা গোপনীয়তা রক্ষা করেই করেছে আর ভুক্তভোগী নারীও প্রাণের ভয়ে পুলিশের কাছে না যেয়ে লুকিয়ে ছিলেন বলেই মনে হচ্ছে। যাই হোক, মূল কথা হলো ভিকটিম রক্ষা পেয়েছেন এবং পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে। এখন সবাই আশা করছেন তদন্ত কাজে কোন গাফিলতি থাকবে না এবং ভিকটিম আদালতে ন্যায় বিচার পাবেন।
ছবির উৎস,NURPHOTO
ছবির ক্যাপশান,
ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ড দাবি করে বিক্ষোভ
আরো লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে মোহাম্মদ আব্দুল মাতিন:
''সম্প্রতি নোয়াখালীর নারী নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে 'ক্রসফায়ার' ব্যবহারের পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরণের বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, গত কয়েক বছর গুম,হত্যা,ধর্ষণ আগুনে পুড়িয়ে মারা, সন্দেহজনকভাবে ছেলে ধরা মনে করে মারা, গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ আবরার ফাহাদ এর মত একজন মেধাবী ছাত্রকে নির্মম ভাবে হত্যা করা, এধরনের সকল বিষয় থেকে ন্যায় বিচার কি পেয়েছি? পাওয়ার আশাও কি আছে? একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা উদ্ঘাটন হচ্ছে আর পূর্বের গুলো সব লুকিয়ে যাচ্ছে।''
ক্রসফায়ার বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংবিধান পরিপন্থী একটি কাজ মি. মাতিন, এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ক্রসফায়ারই যখন একটা অপরাধ তখন আপনি কীভাবে একটি অপরাধ দিয়ে অন্য একটি অপরাধ দমন করবেন? আপনি ঠিকই বলেছেন যে আবরার হত্যার মত অনেক অপরাধের কোন বিচার না হওয়ায় জনমনে অবিশ্বাস এবং অনাস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। আমার মনে হয় সব অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করে দোষীকে আইন সম্মত শাস্তি প্রদান করা প্রয়োজন।
ছবির ক্যাপশান,
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বাহিনীর হাতে প্রায় চার হাজার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে।
ক্রসফায়ারের বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''অপরাধ যত বড় বা হিংস্রই হোক না কেন, ক্রসফায়ার কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য কোন সমাধান নয়। আদালতের দায়িত্ব যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়, তবে নগণ্য হলেও নির্দোষ মানুষ এর শিকার হবেই। বিগত বছরগুলো থেকে আমরা তা দেখে আসছি। এটা ভিন্নমত দমনের একটা হাতিয়ারও বটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যতই অস্বীকার করুক না কেন, এর অপব্যবহার হবেই। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব এটি বন্ধ করা হবে, ততই মঙ্গল। প্রয়োজনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। ''
শুধু অপব্যবহারই যে হচ্ছে তা নয় মি. রহমান, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ধারণাটাই আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ'ধরণের হত্যাকাণ্ডকে 'ক্রসফায়ার'-এর মত নাম দিলেই তা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। বাংলাদেশে এমন কোন আইন আছে কি, যেটা সরকারকে বিনা বিচারে দেশের নাগরিককে হত্যা করার অধিকার দেয়? আমার জানা মতে নেই।
নোয়াখালীর ঘটনা নিয়ে সোমবার সন্ধ্যার রেডিও পরিবেশনা ভাল লেগেছে জানিয়ে লিখেছেন অনুতম বণিক, তবে তিনি কোথা থেকে লিখেছেন তা বলেন নি:
''বেগমগঞ্জ-এর ন্যক্কারজনক ঘটনা নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও সময়োপযোগী একটি প্রতিবেদন শুনে অনেক ভালো লাগল। আরও বেশি ভাল লাগল জাকারিয়া স্বপনের সাক্ষাৎকারে এ সম্পর্কিত আরও একটি সম্পূরক প্রতিবেদন শুনে। আশাকরি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে।''
নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে বহু মানুষ শরণার্থী হয়ে পড়েছেন।
এবার বহির্বিশ্ব নিয়ে একটি চিঠি। আযেরবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ:
''চলমান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া দুটি দেশের ভবিষ্যৎ ফলাফল কোনদিকে মোড় নিচ্ছে? ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে বহুল আলোচিত দ্বন্দ্ব এখনো বিদ্যমান। তবে বিবিসির কাছে আমার প্রশ্ন এ দুটি দেশের মধ্যে এ পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী?''
নাগোর্নো-কারাবাখ-এর যে অংশ নিয়ে বিবাদ, তার অধিকাংশ নাগরিক আর্মেনীয় বংশোদ্ভূত। কিন্তু প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন সেই এলাকাকে আজারবাইজানের অন্তর্ভুক্ত করে। নাগোর্নো-কারাবাখ ইসলাম এবং ক্রিশ্চিয়ানিটি, দু'ধর্মের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেলে নাগোর্নো-কারাবাখ আর্মেনিয়া যোগ দেবার ঘোষণা করে এবং কয়েক লক্ষ আজেরিকে বের করে দেয়। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় প্রথম দফা যুদ্ধ অমীমাংসিত ভাবে শেষ হয়, কিন্তু এখন আজারবাইজান তুরস্কের সহায়তায় তাদের হারানো জমি উদ্ধারের জন্য চরম লড়াই শুরু করেছে। তাহলে কে দায়ী? হয়তো ইতিহাস দায়ী।
ছবির ক্যাপশান,
বাংলাদেশের কক্সবাজারে একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির।
সম্প্রতি রোহিঙ্গা বিষয়ে বেশ কিছু খবর আমাদের পরিবেশনায় ছিল, বিশেষ করে ভাসানচরে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক। সে বিষয়ে দু'একটি চিঠি, প্রথমে লিখেছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে তানসু দাশ:
''সেই ২০১৭ সালে এক বিরাট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আসলেও আজকে তিন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এর কোনো ফলপ্রসূ সমাধান হলো না। রোহিঙ্গারা প্রতি বছর হাজার হাজার শিশুর জন্ম দিয়ে এক বিরাট জনসংখ্যা সৃষ্টি করে চলেছে যা আগামীতে আরো ভয়ানক রূপ ধারণ করতে পারে। যেহেতু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই তাই তারা ধীরে ধীরে বিভিন্ন অন্যায় কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এসব বিষয় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে এটা নির্মূল করার কতটা কঠিন হয়ে উঠবে সরকারের জন্য? আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কী প্রভাব পড়তে পারে?''
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব হয়তো খুব বেশি পড়বে না মি. দাশ, যদি না জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য একমত হয়। সে'রকম ঐক্যমত্যের কোন সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সমস্যা যে ক্রমশ একটি সঙ্কটে পরিণত হচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ক্যাম্পে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার যেভাবে গড়িমসি করছে, বাংলাদেশ সরকারের জন্য নিশ্চয়ই সেটাই বড় চিন্তার বিষয়।
ছবির উৎস,GALLO IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
বিচ্ছিন্ন জীবন: রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আবাসন (লাল ছাদ) সহ ভাসানচর, স্যাটেলাইট থেকে তোল ছবি।
পরের চিঠি লিখেছেন বগুড়ার সোনাতলা থেকে আশরাফুল আলম সিদ্দিকি:
''বিবিসি রোহিঙ্গাদের বিষয়ে খুবই ভালো ভূমিকা পালন করছে। তাদের কথা চিন্তা করে আমার খুব চিন্তা হয়। তারা এভাবে আর কতদিন থাকবে। এভাবে তো আর এত মানুষের জীবন চলতে পারে না। তাদেরও তো একটা ভবিষ্যৎ আছে। ভারত বলেন আর চীন বলুন বা অন্য কেউ, সবাই মুখে বুলি আওড়াচ্ছে কেউ গায়ে মাখতে চাইছে না। কিসের ভয়ে আমি বুঝি না। সারা বিশ্ব কি মিয়ানমার সরকারের কাছে এতই অসহায়? এই রোহিঙ্গাদের অন্যায় কী? কেন তাদের নিয়ে বারবার হেলা করা হচ্ছে?''
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে আমরা দেখেছি মি. সিদ্দিকি, কীভাবে সাধারণ মানুষ জাতিগত বিদ্বেষের কারণে দেশ হারিয়েছেন, গণহত্যার শিকার হয়েছেন। রোহিঙ্গাদের দুর্ভাগ্য যে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীনরা, এমনকি গণতন্ত্রের প্রতীক বলে এক সময়ে খ্যাত অং সান সু চিও এ'ধরণের বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন নাই। বরং রোহিঙ্গাদের 'বাঙালি' আখ্যায়িত করে তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার নীতি গ্রহণ করেছেন। মিয়ানমার এই নীতি থেকে সরে না আসা পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের এই দু:স্বপ্নের শেষ হবে না।
ছবির উৎস,NURPHOTO
ছবির ক্যাপশান,
আসামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আশংকা বাংলাভাষী হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিলে তারা সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে।
এবারে অন্য এক প্রসঙ্গে আসি। বিবিসি বাংলা কি ভারতের নেতিবাচক ঘটনাগুলো এড়িয়ে যায়? পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরের বাসিন্দা সবুজ বিশ্বাস তাই মনে করছেন:
''বিবিসির সংবাদ আমার ভালো লাগে। কিন্তু, একটা বিষয় লক্ষ্য করে অবাক হই। বিবিসি ভারতের খবর তো সম্প্রচার করেই থাকে, কিন্তু লক্ষণীয়ভাবে দেখা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে ভারতে যে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে, তা নিয়ে বিবিসি নীরব। যেখানে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নানান বিষয় নিয়ে বিবিসি চুল চেরা বিশ্লেষণ করে থাকে, যা ভালো লাগে। কিন্তু, ভারতের বিষয়গুলো নিয়ে বিবিসি চুপ কেন?
''যদিও আমি নিজে একটি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কাজ করি। তবুও এটা স্বীকার করেই বলছি যে, ভারতের মিডিয়া তো নতুন ধারার সংবাদ পরিবেশন করে ইতিমধ্যেই 'মোদী মিডিয়া' উপাধি অর্জন করেছে। আপনারও কি এই নৈরাজ্যের কথা তুলে ধরে তামাম বিশ্বকে জানিয়ে দেবেন না?''
কথাটা আপনি মনে হয় ঠিক বলছেন না, মি. বিশ্বাস। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে যত বড় ঘটনা ঘটেছে বা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটা গোমাংস খাওয়ার জন্য মুসলিম হত্যাই হোক, ভারতীয় সংবিধানে কাশ্মীরের মর্যাদা বদলানোই হোক, আসামে নাগরিক পঞ্জী দিয়ে বাংলাভাষীদের বিতাড়িত করার পদক্ষেপ হোক, জাতীয়তা আইনে সংশোধন এনে ধর্ম-ভিত্তিক নাগরিকত্ব দেয়ার নীতি ঘোষণাই হোক বা সেই আইন ঘিরে প্রতিবাদ এবং দাঙ্গা - বিবিসি বাংলা সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিস্তারিত খবর এবং বিশ্লেষণ রেডিও এবং অনলাইনে দিয়েছে। তবে নৈরাজ্য বলে না, ঘটনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ বলেই খবর সম্প্রচার করা হয়েছে। ভারতে আমাদের সাংবাদিক মাত্র দু'জন কিন্তু তা সত্ত্বেও বড় ঘটনা সব সময় বড় করেই কাভার করা হয়েছে।
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
আহমদ শফী
তবে বিবিসি বাংলাকে অন্য ভাবে দেখছেন ভারতের পাঠক অর্ক রায়:
''বিবিসিকে আগে নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক সংবাদ মাধ্যম হিসেবে জানতাম। কিন্তু বিবিসির বাংলাদেশি শাখা বিবিসি বাংলা যেভাবে নির্লজ্জভাবে উগ্র ইসলামিক কট্টরপন্থীকে সমর্থন করছে তাতে বিবিসির বাংলার সাংবাদিকদের ধিক্কার জানাই। বিবিসি বাংলা ক'দিন আগে শফি হুজুর মারা যাওয়ার পর যেভাবে তাকে নিয়ে নিউজ দিচ্ছিল, যেন তিনি মহান কোন নেতা। অথচ তার মত একজন উগ্র কট্টর ইসলামিক ব্যক্তি যিনি গোটা বাংলাদেশে শাপলা চত্বরের ঘটনার মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। তার মত একজন উগ্র কট্টর মহিলা বিরোধী ব্যক্তি যিনি মহিলাদের তেঁতুলের সাথে তুলনা করেছিলেন তাকে নিয়ে বিবিসি বাংলা একের পর এক নিউজ দিয়ে তাকে মহান প্রমাণ করতে চেয়ে ব্যস্ত ছিল।''
কাওকে মহান বা অন্য কিছু প্রমাণ করার জন্য বিবিসি বাংলায় কোন প্রতিবেদন, ফিচার, সাক্ষাৎকার কিছুই প্রচার করা হয় না মি. রায়। ধর্ম নয়, বরং আহমদ শফীর গুরুত্ব ছিল রাজনৈতিক দিক থেকে। তিনি বহু বছর মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে জড়িত কিন্তু সে কারণে তিনি জনসমক্ষে আসেন নি, এবং ইসলামিক শিক্ষা জগতে তাঁর অবস্থানের কারণেও মি. শফিকে নিয়ে এত জল্পনা কল্পনা হয় না। হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালে যা করেছিল তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল, এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে আহমদ শফীর সখ্যতার কারণে বাংলাদেশে ইসলামীকরণের একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। সে কারণেই আহমদ শফী একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং বিবিসি বাংলায় তার জীবন সেভাবেই পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ছবির উৎস,MAJORITY WORLD
ছবির ক্যাপশান,
বাংলাদেশে অনেক টিউব ওয়েলের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে।
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গ। আমাদের অনুষ্ঠান বা কোন চলমান খবর নয়, পরের চিঠি এসেছে সামাজিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে, লিখেছেন নরসিংদী সদর থেকে ওয়ারেছ আলী খান:
''বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে ২০১৯ সালে সম্পাদিত গুচ্ছ জরিপের তথ্য অনুযায়ী দেশের ১১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সম্পাদিত ২০০৩ সালের সর্বশেষ সমীক্ষায় দেশের ২৯ শতাংশ নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক বিদ্যমান থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বিগত ১৭ বছরে আর্সেনিক দূষণের ওপর আর কোনো পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা হয়নি।
''এই নীরব ঘাতকের বিষক্রিয়া তথা আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত মানুষের হালনাগাদ তথ্যসহ যথাযথ চিত্র খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছেই অনুপস্থিত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবে এবং আর্সেনিক-মুক্ত পানি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর শিগগির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি?''
আমরা জানি মি. খান, আর্সেনিক নিয়ে আলোচনা বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে চলছে কিন্তু সমস্যার সমাধান মনে হচ্ছে এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। সবার জন্য সুপেয় এবং নিরাপদ পানি পৌঁছে দেয়া বাংলাদেশের অঙ্গীকার এবং সে লক্ষ্যে কাজ কেন হচ্ছে না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ছবির ক্যাপশান,
বন্যার কবলে বাংলাদেশ (২০১৭ সালে তোলা ছবি, গাইবান্ধা এলাকায়)
পানি নিয়ে আরেকটি চিঠি, তবে খাবার পানি না। লিখেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ মাসুদ রানা:
''বন্যা বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। বর্তমান সময়ে বন্যা যেন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর,পাবনা,সিরাজগঞ্জ জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে এক মাসের ব্যবধানে দুইবার বন্যার পানিতে কৃষকের শীতকালীন সবজি, ধান, পুকুর, ঘর-বাড়ি সহ রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষ পানি বন্দী এবং বেকার হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এসব বন্যা কবলিত জেলার সকল সংসদ সদস্য, বুদ্ধিজীবী, সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে সরকার প্রধানের সাথে যৌথ সভার মাধ্যমে বন্যা মোকাবেলায় একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না কি?''
একটা কথা সব সময় বলা হয় মি. রানা, বন্যা বাংলাদেশের জন্য এক সময়ে আশীর্বাদ আবার অন্য সময়ে অভিশাপ। যুগ যুগ ধরে সেভাবেই চলে আসছে। কিন্তু বন্যাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, তা নিয়ে মত বিরোধ আছে। ষাটের দশকের বাঁধ নির্মাণ কতটুকু উপকার দিয়েছে, তা নিয়ে পরিবেশবিদ এবং প্রকৌশলীদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। তবে বন্যার ব্যবস্থাপনা, যাতে অতিরিক্ত পানির উপকারিতা মানুষ পায় কিন্তু তার অপকারিতা থেকে ফসল এবং বাসস্থান রক্ষা পায়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা তো অবশ্যই থাকে।
ছবির উৎস,TRT TURK
ছবির ক্যাপশান,
এরতুগ্রুল সিরিজের একটি প্রোমো
এবারে আমাদের রেডিও অনুষ্ঠানে ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:
''তুরস্কের টেলি সিরিয়াল এরতুগ্রুল দেখার সৌভাগ্য না হলেও তার উপর শুভজ্যোতি ঘোষের এর প্রতিবেদনটি পড়ে বেশ রোমাঞ্চিত হলাম। এ ধরনের প্রতিবেদনগুলো তৈরির সময় বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনকারী ওয়েব সিরিজ, সিনেমা বা নাটকটি পুরো দেখার পরে তৈরি করেন, না কি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিবিসির ইংরেজি সংবাদদাতার প্রতিবেদন থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়? তবে যেখান থেকেই করা হোক না কেন, আপনাদের কাছে সংবাদের পাশাপাশি এরকম ভিন্নধর্মী কিছু প্রতিবেদন, বই রিভিউ ইত্যাদি বেশ ভালই লাগে। তবে আমার জানতে ইচ্ছা করে সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি এগুলো দেখার সময় কিভাবে মেইনটেইন করা হয়?''
আমাদের সংবাদদাতারা সাধারণত অনুবাদ করে রিপোর্টিং করেন না মি. চৌধুরী। শুভজ্যেতিও এরতুগ্রুল নিয়ে তার প্রতিবেদন বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলে করেছেন। শিল্প সাহিত্য বা বিনোদন জগতের কিছু যখন 'খবর' হয়, তখন তারা প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেটা ঐ বই, সিনেমা বা টেলি সিরিয়ালের রিভিউ না। সেরকম রিভিউ আমাদের অনুষ্ঠানে নেই তবে করা হয়তো যেতে পারে। ভেবে দেখার বিষয়।
পরের চিঠি লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''বিবিসি'র সকালের দুটি অধিবেশন সেই কবেই বন্ধ করে দিয়েছেন। তারপরও অনেক অনেক অনুষ্ঠান পুন:প্রচারের সুযোগ আপনারা পান কীভাবে? একমাত্র প্রীতিভাজনেসু অনুষ্ঠানটি পুন:প্রচার করা যেতে পারে, কিন্তু কই? সেটাতো কখনোই করতে দেখি না।''
আপনি সঠিক বলছেন না মি. ইসলাম। শুধু মাত্র শুক্রবারের বিশেষ প্রতিবেদন পুন:প্রচার করা হয়। অন্য কোন ফিচার পুন:প্রচার করার জায়গা এখন আমাদের অনুষ্ঠানে নেই। আগে বুধবারের ফোন-ইন পুন:প্রচার করা হতো, কিন্তু প্রীতিভাজনেসু ফিরে আসায় সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে।
শেষ করছি ভিন্ন ধরনের একটি চিঠি দিয়ে, পাঠিয়েছেন ঢাকা থেকে রাইহান যিনি শুধু একটি নামই ব্যবহার করেছেন:
''বিবিসি শুধু সংবাদ নয় , গোটা বাংলাদেশর খণ্ড খণ্ড ইতিহাস। শুনলে মন ভালো হয়ে যায়। আমার যখন দশ বছর বয়স, সেই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে নিজেকে বিবিসি র সাথে আঠার মতো লাগিয়ে রেখেছি। সেই ছোটবেলায় বড়দের সাথে বিবিসি শুনতাম এখন ছোটদের সাথে নিয়ে শুনছি। বিবিসি শুধু সংবাদের জন্য নয় এ যেন আমাদের দৈনন্দিন চাওয়া - পাওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেদিন কোন কারণে বিবিসি শুনতে পাইনা , সেদিন কিছু অর্জন থেকে বঞ্চিত হই এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।''
0 Comments